
আশঙ্কাই সত্যি হল
প্রায় ১ হাজার টাকা বেড়ে গেল রান্নার গ্যাসের দাম!
ভোট মিটতেই একধাক্কায় বাড়ল গ্যাসের দাম
এই মূল্যবৃদ্ধিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাজারে,
শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা
প্রশ্ন উঠছে, ভোট শেষ হতেই কেন এই সিদ্ধান্ত?
vo অনেকদিন ধরেই বিরোধী শিবির করছিল, সেটাই সত্যি হল। ভোট মিটতেই জ্বালানির দাম বাড়ানো শুরু করল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। প্রথম কোপটা এল বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর। ১০০-২০০ টাকা নয়, একধাক্কায় সিলিন্ডারপিছু ৯৯৩ টাকা করে বাড়ানো হল ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। তবে এখনও পর্যন্ত সাধারণ গৃহস্থের জন্য বড় স্বস্তির খবর এটাই যে, ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
গৃহস্থের বাড়িতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধি পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের উপরই প্রভাব ফেলতে চলেছে। কারণ, ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সাধারণত হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকানে ব্যবহৃত হয়। একধাক্কায় গ্যাসের দাম প্রায় এক হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায়, খাবারের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হবে, এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে চলেছে। জানুয়ারি মাসে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪৯ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে তা আরও ৩১ টাকা বাড়ানো হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতার জেরে যথাক্রমে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২১৮ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। এবার একধাক্কায় প্রায় এক হাজার টাকা বাড়ল গ্যাসের দাম।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে খাবারের বাজারে। রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, ফাস্টফুড সেন্টার বা ক্যাটারিং পরিষেবাগুলিতে রান্নার খরচ বাড়বে। এর ফলে বাইরে খাওয়ার খরচ বাড়তে পারে। এক কাপ চা থেকে শুরু করে বিরিয়ানি, মিষ্টি বা অন্যান্য খাবারের দাম ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যাঁরা অল্প লাভে ব্যবসা চালান, তাঁদের লাভের পরিমাণ কমে যেতে পারে। কেউ কেউ দাম বাড়াতে বাধ্য হবেন, আবার কেউ গ্রাহক হারানোর ভয়ে বাড়তি খরচ নিজেরাই বহন করার চেষ্টা করবেন। এতে ব্যবসায়িক চাপ ও অনিশ্চয়তা বাড়বে।
তবে আপাতত স্বস্তির জায়গা হল, গৃহস্থালির ১৪.২ কেজির রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে সাধারণ পরিবারের মাসিক রান্নার বাজেটে এখনই সরাসরি চাপ পড়ছে না। কিন্তু বাজারে খাবার ও পরিষেবার দাম বাড়লে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কিছুটা হলেও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
বিরো রিপোর্ট খবর 24