জমি-বিবাদে অশান্তি, ভুয়ো প্রচারের মুখে দৃঢ় পুলিশ—ধনিরামপুরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

Spread the love

জমি-বিবাদে অশান্তি, ভুয়ো প্রচারের মুখে দৃঢ় পুলিশ—ধনিরামপুরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

সাগরপাড়া থানার অন্তর্গত দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধনিরামপুর বাজারে সোমবার সকালে জমি সংক্রান্ত পুরোনো বিবাদকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, পুলিশের দ্রুত ও পেশাদার হস্তক্ষেপে তা অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে আসে। কাজিপাড়া মৌজার ১০৫৭ নম্বর প্লটের ১৫ শতক জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে ফজলুর রহমান ও সামসুদ্দিন মোল্লার পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলেও কিছু উত্তেজিত লোকের প্ররোচনায় তা হাতাহাতি ও লাঠালাঠির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। খবর পাওয়া মাত্রই সাগরপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং বড় ধরনের অঘটন রুখে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে স্পষ্ট, এটি সম্পূর্ণ জমিজনিত ব্যক্তিগত বিরোধ; তবু একদল অসাধু ব্যক্তি ঘটনাকে বিকৃত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো বার্তা ছড়াতে শুরু করেছে। কোথাও বলা হচ্ছে পুলিশ নাকি আক্রান্ত হয়েছে, কোথাও আবার দাবি করা হচ্ছে পুলিশ বাড়াবাড়ি করেছে—যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, পুলিশ শুধুমাত্র দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে শান্তি ফিরিয়ে আনার কাজ করেছে এবং কারও প্রতি অন্যায় আচরণ করেনি। বরং তাদের তৎপরতার জন্যই বড় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, একজন সামান্য আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে পুলিশ। উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে যাতে কোনও কুচক্রী মহল নতুন করে অশান্তি ছড়াতে না পারে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে একাংশের গদি-মিডিয়া ও স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাকে রং চড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। বাস্তবে পুলিশ ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকায়—আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ধনিরামপুরের সাধারণ মানুষও স্বীকার করছেন, পুলিশের উপস্থিতি না থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।
বর্তমানে এলাকা শান্ত, দোকানপাট স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং মানুষ নিশ্চিন্তে চলাফেরা করছে। প্রশাসনের কড়া বার্তা—গুজব নয়, সত্যের পাশে থাকুন। সাগরপাড়া থানার পুলিশ প্রমাণ করেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সদা সতর্ক এবং মানুষের নিরাপত্তাই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার।

ইব্রাহিম শেখের রিপোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *