Wednesday, 28 October, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Khabar 24 Bangla
এই মুহূর্তে

“যত খুশি পালিয়ে যাও, ধরে আমি আনবই!” কমবয়সিদের কেন এমন কড়া বার্তা আইপিএস পাপিয়া সুলতানার?

“যত খুশি পালিয়ে যাও, ধরে আমি আনবই!” কমবয়সিদের কেন এমন কড়া বার্তা আইপিএস পাপিয়া সুলতানার?

অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান, আর তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে ফেরানোর বার্তা—এই দুই ভূমিকাতেই আলোচনায় আইপিএস অফিসার পাপিয়া সুলতানা। কমবয়সি ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, “যত খুশি পালিয়ে যাও, ধরে আমি আনবই!” কিন্তু কে এই পাপিয়া সুলতানা? কীভাবে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে থেকে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হয়ে ওঠার যাত্রা? তাঁর জীবনসংগ্রাম ও তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা ঘিরেই তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

সাধারণ পরিবার থেকে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদে

হাওড়া জেলার বাউড়িয়া এলাকার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম পাপিয়া সুলতানার। তাঁর বাবা ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার এবং মা একটি মাদ্রাসা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই বেড়ে ওঠা পাপিয়ার সামনে ছিল নিজের স্বপ্ন পূরণের চ্যালেঞ্জ। তবে ছোটবেলা থেকেই লক্ষ্য স্থির রেখে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে পড়াশোনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন পাপিয়া। বিনোদন, আড্ডা কিংবা অবসর—সবকিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজের প্রস্তুতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর জীবনের এই অধ্যবসায়ের কাহিনি আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার বিষয়।

২০০৮ সালে কর্মজীবন শুরু, ২০১৫ সালে আইপিএস

২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান তিনি। ২০১৫ সালে আইপিএস পদে উন্নীত হওয়ার পর তাঁর কর্মজীবনে আসে নতুন অধ্যায়।

পুলিশ প্রশাসনে কাজ করার ক্ষেত্রে আইন মেনে দায়িত্ব পালন, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দায়িত্বের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

“যত খুশি পালিয়ে যাও, ধরে আমি আনবই”—কেন এমন বার্তা?

প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং নাবালিকা সংক্রান্ত ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে কমবয়সি ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। পাপিয়া সুলতানার নামে প্রচারিত এই বার্তার মূল বক্তব্য হলো, আবেগের বশে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যার ফলে নিজের ভবিষ্যৎ এবং অন্যের জীবন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে, পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে পুলিশি তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই প্রেমের সম্পর্কের কারণে হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে তার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

১৮ থেকে ২১ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রেও তাঁর বার্তার তাৎপর্য রয়েছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। সাময়িক আবেগের কারণে যেন দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই সতর্কতাই এই বার্তার অন্যতম উদ্দেশ্য।

শুধু অপরাধ দমন নয়, তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করাও জরুরি

একজন পুলিশ আধিকারিকের দায়িত্ব কেবল অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, আইন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে ভুল সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নাবালিকা সংক্রান্ত ঘটনায় আইন ও নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

তবে মনে রাখা দরকার, প্রতিটি ঘটনার আইনি দিক নির্ভর করে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়স এবং প্রযোজ্য আইনের উপর। তাই কোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সঠিক তথ্য জানা এবং আইন মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি

পাপিয়া সুলতানার জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অধ্যবসায়, লক্ষ্য স্থির রাখা এবং দায়িত্ব পালনের বার্তা। তাঁর কর্মজীবনের কাহিনি থেকে তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা উঠে আসে—সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, নিয়মিত পরিশ্রম এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি নিষ্ঠা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বক্তব্য রাখা থেকে শুরু করে তরুণদের সচেতন করার বিভিন্ন উদ্যোগ—এ ধরনের ভূমিকা একজন পুলিশ আধিকারিককে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে নিজের কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যাত্রা অনেক তরুণ-তরুণীকেই অনুপ্রাণিত করতে পারে। জীবনে বাধা আসতেই পারে, কিন্তু সেই বাধার কাছে হার না মেনে নিজের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়াই সাফল্যের অন্যতম পথ।

পাপিয়া সুলতানার নামে প্রচারিত কড়া বার্তার মধ্যেও রয়েছে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা—আবেগের বশে এমন কোনও পদক্ষেপ নয়, যার প্রভাব পড়তে পারে নিজের ভবিষ্যৎ, পরিবার এবং অন্যের জীবনে। তাই শুধু স্বপ্ন দেখাই নয়, সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া এবং আইনকে সম্মান করাও সমান জরুরি।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *