Friday, 23 October, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Khabar 24 Bangla
এই মুহূর্তে

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত! ওম বিড়লার বক্তব্যে বাড়ল জল্পনা।

Spread the love

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত! ওম বিড়লার বক্তব্যে বাড়ল জল্পনা।

এসআইআর বিতর্কে নতুন মোড়! জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে প্রস্তাব এলে কী হবে, জানালেন লোকসভার অধ্যক্ষ।

এসআইআর ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র একাধিক দল তাঁর বিরুদ্ধে সংসদে অপসারণের প্রস্তাব আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। এই পরিস্থিতিতে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সত্যিই কোনও প্রস্তাব জমা পড়লে সংসদ কী পদক্ষেপ করবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ওম বিড়লা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন কোনও নোটিস জমা পড়লে তা নিয়ম ও নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী পরীক্ষা করে দেখা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সংস্থান সংবিধানেই রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। অর্থাৎ, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনও প্রস্তাব জমা পড়লে সেটিকে সরাসরি উপেক্ষা করা হবে না; বরং প্রযোজ্য নিয়ম মেনেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে এখনই কোনও প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বা অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই সরব। এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকেও প্রতিবাদ ও প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীদের অভিযোগ ও দাবিকে কেন্দ্র করে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদের দুই কক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতারা কী পদক্ষেপ করেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

এর আগেও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে অপসারণের প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সেই সময় বিরোধী জোটের সমস্ত শরিকের সমর্থন মেলেনি বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল। পাশাপাশি, এ ধরনের পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি ও প্রযোজ্য পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এবার এসআইআর বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধীদের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হয় এবং সংসদে তাঁরা আদৌ কোনও আনুষ্ঠানিক নোটিস জমা দেন কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় রয়েছে। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের সাংবিধানিক পদ্ধতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত। সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যেভাবে এবং যে কারণে অপসারণ করা যায়, সেই একই পদ্ধতি ও কারণ ছাড়া অপসারণ করা যায় না। সংসদে প্রস্তাব আনা হলেই তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়; নির্দিষ্ট সাংবিধানিক শর্ত এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

বিচারকদের অপসারণের ক্ষেত্রে ‘বিচারক (অনুসন্ধান) আইন, ১৯৬৮’-এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। এই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি-সহ নির্দিষ্ট সদস্যরা থাকেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয় এবং তার ভিত্তিতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রে ঠিক কোন প্রক্রিয়া কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান ও আইনি কাঠামো অনুসারে নির্ধারিত হবে।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ এগোনোর সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, নির্ধারিত তদন্তে অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে সংসদে প্রস্তাবের পরবর্তী পর্যায়ের প্রক্রিয়া এগোতে পারে। অর্থাৎ, গোটা বিষয়টিই একটি নির্দিষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এখন বড় প্রশ্ন, এসআইআর ইস্যুতে বিরোধী জোট কি শেষ পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের দুই কক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আনবে? আর সেই প্রস্তাব জমা পড়লে সংসদীয় প্রক্রিয়া কতদূর এগোবে? ওম বিড়লার বক্তব্যে প্রযোজ্য নিয়ম মেনে পদক্ষেপের কথা স্পষ্ট হলেও, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিরোধীদের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ, প্রস্তাবের আইনি গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *