Friday, 23 October, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Khabar 24 Bangla
এই মুহূর্তে

৮ লক্ষ টাকা ও ৭ ভরি সোনা কি সত্যিই উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল?

Spread the love

স্ত্রীর নিয়ে যাওয়া ৮ লক্ষ টাকা ও ৭ ভরি সোনা কি সত্যিই উদ্ধার করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল? সেই প্রতিশ্রুতিকে ঘিরেই কি ধাপে ধাপে হাতিয়ে নেওয়া হয় আড়াই লক্ষ টাকা? পুলিশের নাম ব্যবহার করে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার রাকিব শেখ ওরফে দোয়েলকে ঘিরে এখন উঠছে একাধিক প্রশ্ন। টাকা ও সোনা ফেরত পাওয়ার আশায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার এই অভিযোগ সামনে আসতেই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।

অভিযোগের সূত্রপাত এক ব্যক্তির পারিবারিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই ব্যক্তির স্ত্রী তাঁর কাছ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ও ৭ ভরি সোনা নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। নিজের টাকা ও সোনা ফেরত পাওয়ার জন্য তিনি যখন উপায় খুঁজছিলেন, তখনই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তাঁকে উদ্ধারের আশ্বাস দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সেই আশ্বাসের আড়ালেই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাকিব শেখ ওরফে দোয়েল ওই ব্যক্তিকে টাকা ও সোনা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় পুলিশের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। অর্থাৎ, টাকা ও সোনা উদ্ধার করে দেওয়ার বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ বা পুলিশের নামের প্রসঙ্গ সামনে আনা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তবে ঠিক কীভাবে পুলিশের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একবারে আড়াই লক্ষ টাকা নেওয়া হয়নি। বরং ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। টাকা ও সোনা উদ্ধারের আশ্বাসে বিশ্বাস করেই অভিযোগকারী একাধিকবার টাকা দিয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। ৮ লক্ষ টাকা ও ৭ ভরি সোনা ফেরত পাওয়ার আশায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে কেন আড়াই লক্ষ টাকা দিতে হল, কীসের ভিত্তিতে এই টাকা চাওয়া হয়েছিল এবং টাকা দেওয়ার পর আদৌ কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছিল কি না—এই সমস্ত বিষয়ই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই শেষ নয়, এই ঘটনায় ভগবানগোলা থানার নাম ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশের নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। কারণ, সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসন বা পুলিশের সাহায্যের আশায় থাকেন, তখন সেই পরিচয় বা নামকে কাজে লাগিয়ে কেউ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বিশ্বাসের অপব্যবহারের অভিযোগকে আরও গুরুতর করে তোলে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল, পুলিশের নাম কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং অভিযোগের প্রতিটি দিকের সত্যতা কতটা, তা তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাকিব শেখ ওরফে দোয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত স্বরূপ, টাকা নেওয়ার পদ্ধতি এবং টাকা উদ্ধারের আশ্বাসের সঙ্গে পুলিশের নাম ব্যবহারের সম্পর্ক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, কত দফায় টাকা লেনদেন হয়েছে এবং সেই লেনদেনের কোনও নথি বা প্রমাণ রয়েছে কি না, সেগুলিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, অভিযোগকারীর কাছ থেকে নেওয়া আড়াই লক্ষ টাকা কোথায় গেল? ৮ লক্ষ টাকা ও ৭ ভরি সোনা উদ্ধারের আশ্বাস দেওয়ার পিছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল? এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, নাকি পুরো বিষয়টি এক ব্যক্তির মাধ্যমেই ঘটেছে—সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি, পুলিশের নাম ব্যবহার করে টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এবং এই ঘটনায় কোনও সরকারি কর্মী বা পুলিশকর্মীর বাস্তব যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলার আগে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

একদিকে স্ত্রীর নিয়ে যাওয়া ৮ লক্ষ টাকা ও ৭ ভরি সোনা ফিরে পাওয়ার আশা, অন্যদিকে সেই আশ্বাসকে কেন্দ্র করে আড়াই লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ—গোটা ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও বাকি। রাকিব শেখ ওরফে দোয়েলের গ্রেপ্তারের পর তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে, অভিযোগকারীর টাকা উদ্ধারের কোনও ব্যবস্থা হয় কি না এবং এই ঘটনার পিছনে আরও কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

তবে মনে রাখতে হবে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও অভিযোগই। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *