Monday, 26 October, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Khabar 24 Bangla
এই মুহূর্তে

আঙুর ফল এতই টক, পুরো গাছটাই কেটে ফেলতে চাইছে।

মোদীর নিশানায় কংগ্রেস! ‘আঙুর ফল এতই টক, পুরো গাছটাই কেটে ফেলতে চাইছে’, মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। SIR বিতর্ক, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন এবং কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে আঙুর ফল টক হওয়ার উদাহরণ টানলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কটাক্ষ, আঙুর ফল এতটাই টক যে, কংগ্রেস যেন পুরো গাছটাই কেটে ফেলতে চাইছে। শুধু তাই নয়, বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব, তরুণ নেতাদের গুরুত্ব এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব রয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ফলে মোদীর এই বক্তব্যকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অভিযোগ, গণতন্ত্রে সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে তারা অন্য কাউকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে চায় না। তাঁর দাবি, কংগ্রেস বিরোধী শিবিরের মধ্যেও অন্য নেতাদের উত্থানকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারছে না।

কংগ্রেসের চিন্তাভাবনা নিয়ে আক্রমণ শানাতে গিয়ে ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধও ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের চিন্তাধারা কংগ্রেসের নেতৃত্বকে প্রভাবিত করছে। একসময় যারা জঙ্গলে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাত, তাদের চিন্তাভাবনা এখন কংগ্রেসের মধ্যে প্রবেশ করে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এগুলি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্য, যার মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসের নীতিগত অবস্থানকে আক্রমণ করেছেন।

কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে কটাক্ষ করতে গিয়ে মোদী আরও দাবি করেন, বিরোধী শিবিরের তরুণ নেতাদের সামনে আসার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস বারবার একটি নির্দিষ্ট মুখকেই সামনে তুলে ধরতে চায়। অন্য নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তাঁদের বক্তব্যও যথাযথভাবে শোনা হয় না।

এই প্রসঙ্গে শ্রীহরিকোটা থেকে রকেট উৎক্ষেপণের উদাহরণ টেনে কংগ্রেসকে বিদ্রূপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এক বছরে শ্রীহরিকোটা থেকে যতগুলি রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়, কংগ্রেস তার চেয়েও বেশি বার নিজেদের নেতাকে সামনে আনার চেষ্টা করে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে কংগ্রেসের নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি, নিজেদের নেতৃত্বকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদীর এই আক্রমণের সময় রাজনৈতিক মহলে অন্যতম আলোচিত বিষয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন—SIR—প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, SIR প্রক্রিয়ার ফলে যোগ্য ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে বিরোধী শিবির।

গত ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে পদযাত্রা করেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র একাধিক শীর্ষ নেতা। সেই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক নেতা অংশ নেন। পুলিশ তাঁদের আটকে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা যায়। সেই সময় একটি ব্যারিকেডে উঠে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান রাহুল গান্ধী। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো!’ পরে সমাজমাধ্যমেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানান তিনি।

এরপর ১২ অক্টোবর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ বা গণতন্ত্রের জন্য পদযাত্রার ডাক দেয় বিরোধী জোট। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকার কথিত অনিয়ম বন্ধ করার দাবিকে সামনে রেখেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা।

এই বিতর্কে ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলিও প্রতিবাদে নেমেছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা AISA-সহ একাধিক সংগঠনের দাবি, SIR প্রক্রিয়ার ফলে বিপুল সংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১৩ কোটি যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি আন্দোলনকারীদের দাবি, নিশ্চিতভাবে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা নয়।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, ভুয়ো ও অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া এবং যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় রাখা নিশ্চিত করতেই SIR প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। ফলে এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে কংগ্রেসকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তীব্র আক্রমণ এবং SIR বিতর্ককে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা অব্যাহত। একদিকে বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশলকে নিশানা করছেন। মোদীর ‘আঙুর ফল এতই টক’ মন্তব্য সেই রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আগামী দিনে SIR বিতর্ক এবং কংগ্রেস-বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *