Monday, 26 October, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Khabar 24 Bangla
এই মুহূর্তে

কেনিয়ার নাইরোবিতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ১২ তলা নির্মীয়মাণ বহুতল! কংক্রিটের স্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা

কেনিয়ার নাইরোবিতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ১২ তলা নির্মীয়মাণ বহুতল! কংক্রিটের স্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা

তাসের ঘরের মতো মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ল বিশাল বহুতল!
একটির পর একটি তল চেপে বসতেই তৈরি হল কংক্রিটের পাহাড়, ধুলোর ঝড়ে ঢেকে গেল গোটা এলাকা!

নাইরোবি, কেনিয়া: নির্মাণাধীন একটি বিশাল বহুতল আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে। প্রায় ১২ তলা উঁচু ওই ভবনটি ধসে পড়ার পর তার ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে একটির পর একটি তল পরস্পরের উপর ভেঙে পড়ে তৈরি হয় কংক্রিটের বিশাল স্তূপ। দুর্ঘটনার সেই ভয়াবহ দৃশ্যের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ঘটনাটি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, কতজন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন এবং উদ্ধারকাজের সর্বশেষ পরিস্থিতি কী, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এই প্রতিবেদনের জন্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আনন্দবাজার ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির ইস্টলি এলাকার একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক সড়কের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ নির্মীয়মাণ বহুতলটি আচমকাই ধসে পড়ে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইস্টলি এমন একটি এলাকা, যেখানে প্রতিদিন বহু মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য, কেনাকাটা এবং নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। ফলে জনবহুল এই এলাকায় এত বড় একটি ভবন ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশাল ভবনটি প্রথমে ভেঙে পড়তে শুরু করে। এরপর একের পর এক তল নীচের দিকে চেপে বসে যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকা বহুতলটি পরিণত হয় কংক্রিট, ইট, লোহার রড এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর বিশাল স্তূপে। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ধুলোর ঘন মেঘ। আচমকা এমন বিপর্যয় নেমে আসায় আশপাশের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাধারণত কোনও ভবন ধসে পড়লে তার ধ্বংসস্তূপের নীচে ফাঁকা জায়গা তৈরি হতে পারে। কিন্তু এই ধরনের ঘটনায় একটির উপর আরেকটি তল চেপে বসে গেলে সেই ফাঁকা জায়গা অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে ভিতরে কেউ আটকে থাকলে তাঁকে খুঁজে বের করা এবং নিরাপদে উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। নাইরোবির এই দুর্ঘটনাতেও উদ্ধারকারীদের সামনে একই ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভেঙে পড়া কংক্রিটের স্তূপ সরাতে যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয় বলেও ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, দুর্ঘটনার সময় ভবনটির বিভিন্ন অংশে মানুষের উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুতলটির উপরের তলাগুলিতে নির্মাণকাজ চলছিল। অন্যদিকে, নীচের তলা এবং বেসমেন্টের কিছু অংশ দোকান হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণে ভবনটির ভিতরে শ্রমিক, দোকানের কর্মী কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তি ছিলেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঠিক কতজন মানুষ দুর্ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সেই সংখ্যা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যের উল্লেখ করে আনন্দবাজার ডটকমের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া কয়েকজন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাঁদের ফোন আর কাজ করছিল না বলে অভিযোগ। যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তা হলে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং তাঁদের অবস্থান নির্ণয় করা উদ্ধারকারীদের কাছে আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো এবং ধ্বংসস্তূপের ভিতরে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা কিংবা কোনও মৃত্যুর খবর সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য আমাদের হাতে নেই। তাই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট দাবি করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

নাইরোবিতে নির্মীয়মাণ বহুতল ধসে পড়ার ঘটনা নতুন নয় বলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেনিয়ার রাজধানীতে দ্রুত নগরায়ণ, বাড়তে থাকা জনসংখ্যা এবং বহুতল নির্মাণের প্রবণতার মধ্যে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নির্মাণকাজে নির্ধারিত মান এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা দেখভালের ক্ষেত্রে গাফিলতি থেকে যায়। ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া এবং নির্মাণকাজের উপর নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

যদিও এই নির্দিষ্ট বহুতলটি কেন ধসে পড়ল, তার প্রকৃত কারণ এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণমান, ভবনের নকশা, কাঠামোগত ত্রুটি, নির্মাণের অনুমোদন এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে কাজ করা হয়েছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে চিহ্নিত করা উচিত নয়।

একটি নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনা শুধুমাত্র একটি ভবনের ধস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের জীবন, জীবিকা এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন। যে ভবনের নীচের অংশে দোকান থাকার কথা বলা হয়েছে, সেখানে প্রতিদিন কত মানুষ যাতায়াত করতেন, তাঁদের মধ্যে কেউ দুর্ঘটনার সময় ভিতরে ছিলেন কি না এবং ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং আশপাশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নাইরোবির এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ভিডিয়ো ঘিরে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনও ভিডিয়ো দেখেই ঘটনার সমস্ত বিবরণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত করা যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, উদ্ধারকারী সংস্থা এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের পরবর্তী তথ্যের উপর নজর রাখা জরুরি।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সূত্রসংক্রান্ত সতর্কীকরণ: এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার ডটকমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ঘটনার সত্যতা, ভিডিয়োর উৎস, দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ, হতাহতের সংখ্যা এবং উদ্ধারকাজের সর্বশেষ পরিস্থিতি আমাদের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যগুলি সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্রনির্ভর; তাই নিশ্চিত সরকারি তথ্য হিসেবে গ্রহণ করার আগে পাঠকদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবৃতি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র মিলিয়ে দেখার অনুরোধ করা হচ্ছে। নতুন ও যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন করা যেতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

‘কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন মল্লিকার্জুন খাড়গের। আর সেই বক্তব্যের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য, পাটনার মঞ্চে শুরু হয়ে গেল তুমুল হট্টগোল! Business

‘কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন মল্লিকার্জুন খাড়গের। আর সেই বক্তব্যের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য, পাটনার মঞ্চে শুরু হয়ে গেল তুমুল হট্টগোল!

৩৩ মিনিট আগে
মাত্র তিন বিঘা জমি, অভাবের সংসার আর বুকভরা স্বপ্ন! ছেলেকে ডাক্তার বানাতে নিজের জমির অর্ধেক বিক্রি করে দিয়েছিলেন কৃষক বাবা। আজ NEET UG পরীক্ষায় বাংলায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে বাবার সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখলেন মুর্শিদাবাদের অনীক ঘোষ। Breaking News

মাত্র তিন বিঘা জমি, অভাবের সংসার আর বুকভরা স্বপ্ন! ছেলেকে ডাক্তার বানাতে নিজের জমির অর্ধেক বিক্রি করে দিয়েছিলেন কৃষক বাবা। আজ NEET UG পরীক্ষায় বাংলায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে বাবার সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখলেন মুর্শিদাবাদের অনীক ঘোষ।

৪৩ মিনিট আগে

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *