Monday, 26 October, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Khabar 24 Bangla
এই মুহূর্তে

‘কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন মল্লিকার্জুন খাড়গের। আর সেই বক্তব্যের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য, পাটনার মঞ্চে শুরু হয়ে গেল তুমুল হট্টগোল!

‘কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন মল্লিকার্জুন খাড়গের। আর সেই বক্তব্যের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য, পাটনার মঞ্চে শুরু হয়ে গেল তুমুল হট্টগোল!

SIR প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিজেপি-আরএসএসের আদর্শ এবং নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক অবস্থান—একাধিক ইস্যুতে একসঙ্গে সরব কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি।

বিহারের রাজধানী পাটনায় একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ২৫ অক্টোবর, রবিবার, বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ডঃ শ্রীকৃষ্ণ সিংহের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা RSS এবং নির্বাচন কমিশনকে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি মন্তব্য ঘিরেই বিশেষভাবে চর্চা শুরু হয়েছে। কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হন কংগ্রেস সভাপতি। অন্যদিকে, খাড়গের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে পাটনার এই সভাকে ঘিরে কংগ্রেস-বিজেপি রাজনৈতিক সংঘাত আরও একবার সামনে চলে এসেছে।

‘প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে কালো টাকা ফেরানোর কথা ছিল, টাকা গেল কোথায়?’

পাটনার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করতে গিয়ে প্রথমেই কালো টাকা ফেরানোর পুরনো প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর বক্তব্য, বিদেশের ব্যাঙ্কে জমা থাকা কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কোথায়, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। খাড়গে প্রশ্ন করেন, প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে বিদেশে থাকা কালো টাকা ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু সেই টাকা কোথায় গেল?

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মোদী সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং তার বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস সভাপতি। কালো টাকা ফেরানোর বিষয়টি ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই একটি আলোচিত ইস্যু। বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তব ফলাফল নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়া জরুরি। সেই রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই খাড়গে প্রশ্ন তোলেন বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়। তবে কালো টাকা ফেরানোর বিষয়ে তাঁর এই বক্তব্যকে কংগ্রেস সভাপতির রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত; এই মঞ্চে করা প্রশ্ন নিজে থেকে কোনও আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ নয়।

‘মোদী কোথাও যাবেন না’—শ্রোতার মন্তব্য, পাল্টা জবাবে বিতর্ক

কালো টাকা এবং SIR নিয়ে বক্তব্যের মধ্যেই সভাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে বলেন, তিনি কোথাও যাবেন না। সেই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে খাড়গে বলেন, ‘মোদী কা বাপ ভি যায়েগা’, যার অর্থ, মোদীর বাবাকেও চলে যেতে হবে।

কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সভাস্থলে হট্টগোল শুরু হয়। বক্তব্যের এই অংশটি দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। কারণ, রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর নীতি নিয়ে সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত মন্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। খাড়গের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি অভিযোগ তুলেছে, রাজনৈতিক বিরোধিতার ক্ষেত্রেও ভাষার সংযম থাকা জরুরি।

বিজেপি নেতারা খাড়গের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। অন্যদিকে, খাড়গের বক্তব্যের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ছিল কেন্দ্রের সরকার, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা। ফলে তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি সভায় উত্থাপিত অন্যান্য বিষয়ও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।

SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা

পাটনার সভায় খাড়গের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR। এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলির আপত্তি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, সেই প্রসঙ্গেই সরব হন কংগ্রেস সভাপতি।

খাড়গের অভিযোগ, SIR-এর মাধ্যমে বিরোধী দলগুলির সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে কোনও যোগ্য ভোটার তাঁর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে খাড়গে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকার তথ্য, নির্বাচন কমিশনের নথি এবং নির্দিষ্ট ঘটনাগুলি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এই অভিযোগের মধ্য দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নকে সামনে আনতে চেয়েছেন তিনি।

খাড়গে আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা জরুরি। তাঁর বক্তব্যে ভোটার তালিকা সংশোধন, বিরোধী দলগুলির আপত্তি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা—এই তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়। SIR-কে ঘিরে বিরোধীদের প্রতিবাদকে তিনি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই হিসেবে তুলে ধরেন।

ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবি, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাড়গে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের দাবিও তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের আস্থা ফেরানো এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই তিনি আগামী দিনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের পক্ষে সওয়াল করেন।

এছাড়াও গত দু’বছরে বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলে নির্বাচন ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি বারবার উঠে আসে।

তবে এখানে স্পষ্ট করা দরকার, নির্বাচন বাতিল করা বা ভোটগ্রহণের পদ্ধতি পরিবর্তনের মতো বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। খাড়গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে যে দাবি তুলেছেন, তা কোনও নির্বাচনের ফল বাতিল হয়ে যাওয়া বা ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়ে যাওয়ার সমান নয়। এ বিষয়ে কোনও বাস্তব সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং আইনি প্রক্রিয়ার তথ্যই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

বিজেপি ও RSS-এর আদর্শ নিয়ে কী বললেন খাড়গে?

শুধু প্রধানমন্ত্রী বা নির্বাচন কমিশন নয়, পাটনার মঞ্চ থেকে বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আদর্শ নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, RSS-এর আদর্শ দেশে বজায় থাকলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

খাড়গের বক্তব্যের মূল সুর ছিল ধর্মীয় বিভাজনের পরিবর্তে সামাজিক সম্প্রীতি এবং ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর মতে, ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য নয়; বরং মানুষের মধ্যে ঐক্য, সহাবস্থান এবং পারস্পরিক সম্মান গড়ে তোলার শিক্ষা দেওয়া উচিত।

বিজেপি ও RSS-কে নিয়ে কংগ্রেসের এই সমালোচনা অবশ্য নতুন নয়। দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে আদর্শগত বিরোধ দীর্ঘদিনের। একদিকে কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নকে সামনে রেখে বিজেপি-আরএসএসের রাজনীতির সমালোচনা করে। অন্যদিকে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ এবং অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। পাটনার সভায় খাড়গের বক্তব্য সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্যকেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

নীতীশ কুমারকেও ছাড় দিলেন না কংগ্রেস সভাপতি

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর বক্তব্য, একসময় রামমনোহর লোহিয়া এবং সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত নীতীশ কুমার এখন বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ। খাড়গের মতে, এই রাজনৈতিক অবস্থান তাঁর পূর্ববর্তী আদর্শের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক যাত্রায় বিভিন্ন সময়ে জোটের পরিবর্তন ঘটেছে। সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই খাড়গে তাঁর সমালোচনা করেন। কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যে মূলত আদর্শের রাজনীতি এবং ক্ষমতার সমীকরণের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি উঠে আসে। তবে নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে খাড়গের সমালোচনা তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন; সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

জাতিগত বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতা নিয়েও বার্তা

পাটনার সভায় সামাজিক বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধেও বক্তব্য রাখেন খাড়গে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মধ্যে সমতা, ঐক্য এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি বোঝাতে চান, ধর্মের নামে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা উচিত নয়। সমাজে জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্য এবং অস্পৃশ্যতার মতো সমস্যার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অবস্থান নেওয়া জরুরি।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে খাড়গে তাঁর রাজনৈতিক ভাষণে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাম্যের বিষয়টিকেও যুক্ত করেন। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্য কেবল প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রের সরকারের সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং নির্বাচনী অধিকার, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক আদর্শ—একাধিক বিষয় উঠে আসে।

বিজেপির পাল্টা আক্রমণ, বিতর্ক কোন দিকে?

খাড়গের বক্তব্যের পর বিজেপি নেতারা তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বাবার প্রসঙ্গ টেনে আনা মন্তব্যটিকেই সামনে রেখে কংগ্রেস সভাপতির ভাষার সমালোচনা করা হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, খাড়গের বক্তব্যে কেন্দ্রের সরকারের প্রতিশ্রুতি, SIR প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্নগুলি উঠেছে, সেগুলিও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

ফলে পাটনার এই সভাকে ঘিরে বিতর্কের দুটি পৃথক দিক স্পষ্ট। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে খাড়গের মন্তব্য এবং তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। দ্বিতীয়ত, কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি, ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং বিজেপি-আরএসএসের আদর্শ নিয়ে তাঁর তোলা প্রশ্ন।

একদিকে বিজেপি ব্যক্তিগত মন্তব্যের বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে কংগ্রেসের বক্তব্যে উঠে আসছে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন। এই দুই অবস্থানের সংঘাত আগামী দিনে রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

সব মিলিয়ে, বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ডঃ শ্রীকৃষ্ণ সিংহের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পাটনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কেবল স্মরণসভায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, SIR প্রক্রিয়ার সমালোচনা, ব্যালট পেপারে ভোটের দাবি এবং বিজেপি, RSS ও নীতীশ কুমারকে নিশানা—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই সভা। এখন নজর থাকবে, এই মন্তব্য ও অভিযোগের পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কোন দিকে এগোয় এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির জবাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি কী অবস্থান নেয়।

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *