Monday, 26 October, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Khabar 24 Bangla
এই মুহূর্তে

Bigg Boss Bangla | প্রথম ক্যাপ্টেন হয়েও শেষরক্ষা হল না! বিজয়ের স্বপ্ন থামিয়ে বিগ বসের বাড়ি ছাড়লেন ভরত কল

Bigg Boss Bangla | প্রথম ক্যাপ্টেন হয়েও শেষরক্ষা হল না! বিজয়ের স্বপ্ন থামিয়ে বিগ বসের বাড়ি ছাড়লেন ভরত কল

বয়সকে হার মানিয়ে তরুণ প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমানে টক্কর, অসুস্থ শরীরেও রাত জেগে দায়িত্ব পালন—বিগ বসের বাড়িতে সকলের ‘ফাদার ফিগার’ হয়ে উঠেছিলেন ভরত কল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থামল তাঁর যাত্রা।

যাঁর পাশে সব সময় বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছেন ভরত, সেই মনামী ক্যাপ্টেন থাকাকালীনই বাড়ি ছাড়তে হল তাঁকে! প্রিয় প্রতিযোগীর বিদায়ে মন খারাপ অনুরাগীদেরও।

বিগ বসের বাড়িতে প্রতিযোগিতার ময়দানে বয়স যে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তা যেন নিজের খেলায় প্রমাণ করেছিলেন অভিনেতা ভরত কল। বিগ বস বাংলার প্রতিযোগীদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে বড় হওয়া সত্ত্বেও অল্পবয়সি প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে খেলেছেন তিনি। কখনও দায়িত্ব সামলানো, কখনও কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থানে অনড় থাকা, আবার কখনও সহ-প্রতিযোগীদের পাশে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে বিগ বসের বাড়িতে নিজের একটা আলাদা জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন ভরত। কিন্তু সেই যাত্রায় এবার ইতি পড়ল। বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চললেও মাঝপথেই বিগ বসের বাড়ি থেকে বিদায় নিতে হল তাঁকে।

বিগ বসের বাড়িতে ভরত কলের উপস্থিতি ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বয়সের ব্যবধান থাকলেও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে কখনও নিজেকে পিছিয়ে রাখেননি তিনি। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও রাত জেগে বাড়ির কাজ করেছেন, নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন। বাড়ির একাধিক প্রতিযোগীর কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অভিভাবকের মতো। সেই কারণেই তাঁকে শুধু একজন প্রতিযোগী হিসেবে নয়, বরং বাড়ির একজন অভিজ্ঞ ও ভরসাযোগ্য সদস্য হিসেবেও দেখতেন অনেকে। তাঁর উপস্থিতি বাড়ির পরিবেশে যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল, তা বলাই যায়।

তবে বিগ বসের খেলায় জনপ্রিয়তা থাকলেই যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা যায়, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল ভরত কলের বিদায়ে। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিকবার নমিনেশনের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। প্রতিবারই দর্শকদের ভোটের জোরে ফিরে এসেছেন তিনি। বারবার নমিনেট হয়েও টিকে যাওয়ায় অনেকের মনে ধারণা তৈরি হয়েছিল, হয়তো শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় অনেকটা পথ এগিয়ে যাবেন ভরত। এমনকি ধীরে ধীরে বিজয়ের দিকেও এগিয়ে যেতে পারেন তিনি—এমন প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল অনুরাগীদের একাংশের মধ্যে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই হিসেব মেলেনি। এবার আর দর্শকদের ভোটে রক্ষা পেল না তাঁর বিগ বসের যাত্রা। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হল তাঁকে।

ভরত কলের এই বিদায় নিঃসন্দেহে তাঁর অনুরাগীদের কাছে আবেগের মুহূর্ত। কারণ, প্রতিযোগিতার সময় একাধিকবার বিবাদে জড়ালেও তাঁকে বেশিরভাগ সময় অন্যদের পাশে দাঁড়াতেই দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে মনামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং মনামীর প্রতি তাঁর সমর্থন বারবার নজর কেড়েছে। বাড়ির বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মনামীর পাশে বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছেন ভরত। কোনও সমস্যা তৈরি হলে কিংবা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলে মনামীকে সমর্থন করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ফলে তাঁদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই সম্পর্ক বিগ বসের বাড়ির অন্যতম আলোচিত সমীকরণ হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস! যে মনামীর পাশে এত দিন বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছেন ভরত, সেই মনামী যখন বাড়ির ক্যাপ্টেন, তখনই বিগ বসের বাড়ি ছাড়তে হল তাঁকে। ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে থাকা মনামীর কাছেও এই বিদায় যে সহজ মুহূর্ত নয়, তা স্বাভাবিকভাবেই অনুমেয়। একদিকে বাড়ির প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে কাছের একজন মানুষের বিদায়—এই দুইয়ের মধ্যে আবেগ সামলানো যে কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভরত কলের চলে যাওয়া তাই শুধু একজন প্রতিযোগীর বিদায় নয়, বরং বাড়ির ভিতরে গড়ে ওঠা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন।

তবে ভরত কলের বিগ বস সফরের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল আরও একটি আবেগের গল্প—তাঁর পরিবার এবং বিশেষ করে মেয়ের প্রতি টান। প্রতিবার নমিনেশনের সময় ভরত বারবার জানিয়েছিলেন, মেয়ের ডাক পেলেই তিনি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন। বিগ বসের বাড়িতে থাকার সময় নিজের মেয়েকে যে কতটা মিস করেছেন, তাঁর কথাতেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। প্রতিযোগিতার চাপ, বাড়ির নানা সমীকরণ এবং দর্শকদের ভোটের লড়াইয়ের মধ্যেও পরিবারের প্রতি তাঁর টান কখনও আড়ালে থাকেনি। পর্দার বাইরের এই আবেগই তাঁকে অনেক দর্শকের কাছে আরও বেশি আপন করে তুলেছিল।

অন্যদিকে, বিগ বসের বাড়িতে ভরত কলকে নিয়মিত সমর্থন করেছেন তাঁর স্ত্রী জয়শ্রী। বাড়ির ভিতরে স্বামীর প্রতিটি পদক্ষেপ এবং প্রতিযোগিতার লড়াই নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহের মধ্যেই পরিবারের সমর্থন ছিল তাঁর কাছে বড় ভরসা। একই সঙ্গে বাবাকে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় দেখতে চেয়েছিল তাঁর মেয়েও। কিন্তু খেলার নিয়ম আলাদা। ব্যক্তিগত পছন্দ, আবেগ কিংবা কোনও প্রতিযোগীর প্রতি ভালোবাসা—সবকিছুর ঊর্ধ্বে শেষ পর্যন্ত কাজ করে প্রতিযোগিতার ফলাফল। তাই যাঁকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন অনুরাগীরা, তাঁকেই এবার বিদায় জানাতে হল।

বিগ বসের বাড়িতে প্রত্যেক প্রতিযোগীর যাত্রারই একটি নির্দিষ্ট পরিণতি রয়েছে। কেউ শুরুতেই ছিটকে যান, কেউ আবার একের পর এক বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলেন শেষ পর্যায়ের দিকে। ভরত কলও বারবার নমিনেশনের চাপ সামলে নিজের জায়গা ধরে রেখেছিলেন। সেই কারণে তাঁর বিদায়কে ঘিরে প্রত্যাশা এবং আবেগ—দুটিই ছিল প্রবল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার নিয়ম মেনেই তাঁকে বাড়ি ছাড়তে হল। দুর্গাপুজোর পর লক্ষ্মীপুজোর দিন বিগ বসের বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরলেন ভরত কল।

বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হল না, শেষ পর্যন্ত ট্রফির লড়াইয়েও আর থাকা হল না তাঁর। কিন্তু বিগ বসের বাড়িতে কাটানো সময়, অসুস্থতার মধ্যেও দায়িত্ব পালন, অন্যদের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিবারের প্রতি তাঁর আবেগ—এই সবকিছুই দর্শকদের মনে থেকে যাবে। প্রতিযোগিতার মঞ্চে শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, তা সময়ই বলবে। তবে ভরত কলের এই যাত্রা বুঝিয়ে দিল, কোনও প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয়ই শেষ কথা নয়। কখনও কখনও মানুষের ব্যবহার, সম্পর্ক এবং আবেগই তাঁকে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে দেয়। ভরত কলের ক্ষেত্রেও কি সেই কথাই সত্যি হয়ে রইল? বিজয়ের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও দর্শকদের ভালোবাসায় তিনি কতটা জায়গা ধরে রাখতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

সম্পর্কিত খবর

‘কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন মল্লিকার্জুন খাড়গের। আর সেই বক্তব্যের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য, পাটনার মঞ্চে শুরু হয়ে গেল তুমুল হট্টগোল! Business

‘কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন মল্লিকার্জুন খাড়গের। আর সেই বক্তব্যের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য, পাটনার মঞ্চে শুরু হয়ে গেল তুমুল হট্টগোল!

২ ঘণ্টা আগে

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *