‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর লোক’ বলে বাস ইউনিয়ন অফিসে তাণ্ডব! ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে বাঁকুড়ায় গ্রেফতার ২
‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর লোক’—এই পরিচয় দিয়েই কি তবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা? বাস ইউনিয়নের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর, কর্মীদের মারধর এবং সিভিক ভলান্টিয়ারকে হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য বাঁকুড়ার কোতুলপুরে। ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বাঁকুড়ার কোতুলপুরের নেতাজি মোড় এলাকায় একটি বাস কর্মী ইউনিয়নের অফিসে ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করল কোতুলপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম প্রণব মণ্ডল এবং রাজেশ মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রণবের বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট এলাকায় এবং রাজেশ কলকাতার যাদবপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। শনিবারের এই ঘটনার পর ধৃত দু’জনকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার দুপুরে দু’টি বাইকে চেপে চার যুবক কোতুলপুরের নেতাজি মোড় এলাকায় আসেন। অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এমনভাবে বাইক রাখা হয়েছিল, যাতে বাসযাত্রীদের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছিল। সেই সময় বিএমএস পরিচালিত বাস কর্মী ইউনিয়নের এক সদস্য বাইকগুলি অন্যত্র সরিয়ে রাখার কথা বলেন। আর তা নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে বচসার সূত্রপাত হয় বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, বচসা চলাকালীন চার যুবকের মধ্যে দু’জন নিজেদের ‘মুখ্যমন্ত্রীর লোক’ বলে পরিচয় দেন। এরপর তাঁরা বাস কর্মী ইউনিয়নের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং কর্মীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকেও হেনস্থার মুখে পড়তে হয় বলে দাবি। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
এরপর কোতুলপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইউনিয়ন অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে আটক করে। পরে বাস কর্মী ইউনিয়নের এক সদস্যের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এই ঘটনায় বিএমএসের কোতুলপুর ব্লক সভাপতি সুদীপ তিওয়ারি অভিযোগ করেন, চার যুবক মত্ত অবস্থায় বাইকে চেপে নেতাজি মোড়ে এসেছিলেন। বাসস্ট্যান্ডের কাছে বাইক রাখাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের এক সদস্যের সঙ্গে তাঁদের বচসা বাধে। তাঁর দাবি, বাইক সরিয়ে দেওয়ার কথা বলতেই দুই যুবক অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে ইউনিয়ন অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালান। হামলাকারীরা নিজেদের মুখ্যমন্ত্রীর লোক বলেও পরিচয় দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সুদীপ তিওয়ারির বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় কাজ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
তবে ঠিক কী কারণে বচসা থেকে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। ‘মুখ্যমন্ত্রীর লোক’ পরিচয় দিয়ে হামলা চালানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বাস ইউনিয়নের অফিসে ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগে দুই যুবকের গ্রেফতারির ঘটনায় কোতুলপুরে তৈরি হয়েছে নতুন করে উত্তেজনা।