ভুল ইঞ্জেকশনে ১১ বছরের নাবালকের মৃত্যুর অভিযোগ! কলকাতা মেডিক্যালে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিবারের
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। ১১ বছরের এক নাবালকের মৃত্যুর পর হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, পালটা লাঠিচার্জ এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি রবিবার সকালের। মৃত নাবালক পবন যাদব হাওড়ার আন্দুলের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, পেটে ব্যথা নিয়ে তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে জুনিয়র চিকিৎসকদের পরপর দুটি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই শিশুটির মৃত্যু হয়। যদিও ইঞ্জেকশন দেওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
নাবালকের মৃত্যুর পরই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, সন্তানের দেহ না সরানোর দাবিতেও হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। পরিবারের আরও অভিযোগ, মৃত্যুর পর তাঁদের সন্তানের মুখ পর্যন্ত দেখতে দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপরই বিক্ষোভকারী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
একটি শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। চিকিৎসায় সত্যিই কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই কেন নাবালকের মৃত্যু হল এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হবে—এখন সেই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজছেন সকলে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের বিস্তারিত সামনে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।