Tuesday, 27 October, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Khabar 24 Bangla
এই মুহূর্তে

পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক গ্রেফতার, ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তোলাবাজির অভিযোগ

পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক গ্রেফতার, ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তোলাবাজির অভিযোগ

বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক সায়ন্তন সান্যালকে গ্রেফতার করল পূর্ব বর্ধমান থানার পুলিশ। এক ঠিকাদারের অভিযোগ, বিভিন্ন কাজ করে দেওয়া এবং সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। সোমবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন সায়ন্তন। অন্যদিকে, অভিযুক্তকে আগেই আপ্ত সহায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী।

কী অভিযোগ উঠেছে সায়ন্তন সান্যালের বিরুদ্ধে?

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে বিধায়কের আপ্ত সহায়ক হিসেবে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সায়ন্তন সান্যালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়া, সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা নেওয়া হতো।

এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানের রায়নার ঠিকাদার বিশ্বরূপ সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযোগকারী বিশ্বরূপ সাহা স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সায়ন্তন তাঁর কাছ থেকে ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সায়ন্তন সান্যালকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে অভিযোগের সম্পূর্ণ বিবরণ, টাকা লেনদেনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং এই ঘটনায় অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

জগদ্দলের বাড়ি থেকে গ্রেফতার

সায়ন্তন সান্যালের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দল থানা এলাকায়। সোমবার সকালে সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পূর্ব বর্ধমানের রায়নার এক ঠিকাদারের অভিযোগের সূত্র ধরে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

পুলিশের কাছে অভিযোগ, বিধায়কের আপ্ত সহায়ক হিসেবে পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিচয় ব্যবহার করে টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য কী, তা খতিয়ে দেখার বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।

কী বলছেন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী?

এই ঘটনা সামনে আসার পর পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্য ঘিরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হলে বিধায়ক জানান, সায়ন্তন সান্যালকে তিনি আগেই তাঁর আপ্ত সহায়কের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।

পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্য, “আমি আমার আপ্ত সহায়কের পদ থেকে আগেই ওঁকে নিষ্কৃতি দিয়েছি। তারপর তিনি অ্যারেস্ট হয়েছেন কি না বা কী ব্যাপার, তিনি কী করেছেন, আপনি তাঁর বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন।”

অর্থাৎ, সায়ন্তন সান্যালের গ্রেফতারির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তাঁর পদ থেকে আগেই সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিই সামনে এনেছেন বিধায়ক। তবে ঠিক কবে তাঁকে পদ থেকে সরানো হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

বিধায়কের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল?

জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের বেশ কিছু সময় আগে থেকেই পাপিয়া অধিকারীর সঙ্গে সায়ন্তন সান্যালের যোগাযোগ ছিল। নির্বাচনের পর তাঁকে বিধায়কের আপ্ত সহায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে খবর।

অভিযোগ, এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই তিনি বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছিলেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। অভিযোগের সমর্থনে কী কী তথ্য বা নথি পুলিশের হাতে রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে সামনে আসেনি।

তদন্তের দিকে নজর

একজন ঠিকাদারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন আপ্ত সহায়কের গ্রেফতারির ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগে উল্লিখিত ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার লেনদেন, কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং পরিচয়ের অপব্যবহারের বিষয়গুলি তদন্তে কতটা স্পষ্ট হয়, এখন সেদিকেই নজর।

তবে মনে রাখতে হবে, সায়ন্তন সান্যালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত হয়, তার উপরই ঘটনার পরবর্তী দিক নির্ভর করছে।

সূত্র: সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালে প্রকাশিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্য এবং সরবরাহ করা প্রতিবেদন।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *