Monday, 26 October, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Khabar 24 Bangla
এই মুহূর্তে

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বড় ইঙ্গিত! হাসিনার ঘোষিত বাংলাদেশ যাত্রার আগেই কি ভারতে আসছেন তিনি?

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বড় ইঙ্গিত! হাসিনার ঘোষিত বাংলাদেশ যাত্রার আগেই কি ভারতে আসছেন তিনি?

নভেম্বরেই কি নয়াদিল্লিতে পা রাখতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? গঙ্গার জলচুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘিরে বাড়ছে জল্পনা।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত বাংলাদেশে ফেরার সময়ের আগেই কি ভারতে আসতে পারেন তারেক রহমান? এই প্রশ্ন ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে কূটনৈতিক মহলে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর মাসেই ভারত সফরে আসতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। যদিও এই সফর নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা সামনে আসেনি।

নভেম্বরেই ভারত সফর? কী বলছে নতুন রিপোর্ট?

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিকস সম্মেলনের সময় ভারত সফরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই সফর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নভেম্বর মাসে তাঁর ভারত সফর নিয়ে জল্পনা ছড়ালেও নির্দিষ্ট কোনও দিনক্ষণ জানা যায়নি।

এবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে নভেম্বর মাসের সম্ভাবনার কথা উঠে আসায় কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সফরের তারিখ, আলোচ্য বিষয় এবং দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের খবর নেই।

গঙ্গার জলচুক্তিই কি ভারত সফরের প্রধান কারণ?

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির বিষয়টি বিশেষভাবে জড়িয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, গঙ্গার জলচুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা এবং বাংলাদেশের স্বার্থে নতুন সমঝোতার বিষয়টিকে নিজেদের সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার।

গঙ্গার জলবণ্টন বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে শুষ্ক মরসুমে নদীর জল বণ্টন, কৃষিকাজ এবং দুই দেশের নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হয়ে আসছে। ফলে এই চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহিদুদ্দিন চৌধুরী আনি চলতি মাসের শুরুতে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, ১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে এই সময়সীমার মধ্যে আদৌ কোনও চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

কী এই গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি?

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে দুই দেশের মধ্যে এই ৩০ বছর মেয়াদি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন হয়।

এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শুষ্ক মরসুমে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা ব্যারাজে গঙ্গার জল বণ্টনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ, পরবর্তী সমঝোতা এবং দুই দেশের জলবণ্টন নীতি এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন কোনও চুক্তি বা পুরনো চুক্তি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা এবং কৃষিকাজের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারত কী জানিয়েছে?

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনার মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, তারেক রহমানকে দেওয়া ভারতের আমন্ত্রণ এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে এই সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কোনও প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়েছে।

এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, সম্ভাব্য সফরের জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। কিন্তু আমন্ত্রণ কার্যকর থাকা আর সফরের তারিখ চূড়ান্ত হওয়া এক বিষয় নয়। ফলে ভারত সফর বাস্তবে কবে হবে, তা নির্ভর করছে দুই দেশের সরকারের পারস্পরিক আলোচনা এবং উপযুক্ত সময় নির্ধারণের উপর।

চিন, আমেরিকার পর এবার কি ভারতের পালা?

তারেক রহমানের বিদেশ সফরের কূটনৈতিক দিকটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর ছিল চিনে। এরপর তিনি আমেরিকা সফর করেন এবং বর্তমানে জাপান সফর নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সম্ভাব্য সফর নিয়েও নানা জল্পনা রয়েছে। তবে প্রতিটি সফরের কূটনৈতিক উদ্দেশ্য এবং বাস্তব পরিস্থিতি আলাদা। তাই কোনও সফরের সম্ভাবনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

এদিকে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনা ঘিরে বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সৌদি সফর এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। সফর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা হবে এবং বাংলাদেশ একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চায়। তবে সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উপযুক্ত সময় এলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে। পারস্পরিক সম্মান, দুই দেশের জাতীয় স্বার্থ এবং উভয় প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি ও সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করেই সফরের সময় নির্ধারণ করা হবে।

এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থের বিষয়টিও সামনে রাখা হচ্ছে।

হাসিনার ঘোষিত বাংলাদেশ যাত্রার আগে কী হতে পারে?

শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে যাওয়ার ঘোষণা এবং তারেক রহমানের সম্ভাব্য নভেম্বরের ভারত সফর—এই দুই বিষয়কে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দুটি বিষয়ের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

তারেক রহমানের ভারত সফর হলে গঙ্গার জলচুক্তি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। কিন্তু সফরের নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, এনডিটিভির প্রতিবেদন তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে এখনই সফর চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। শেষ পর্যন্ত নভেম্বরেই কি ভারতে আসবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, নাকি সফরের সময় পিছিয়ে যাবে—সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা নেই। নভেম্বর মাসে সফরের সম্ভাবনার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উঠে এসেছে।

সম্পর্কিত খবর

‘কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন মল্লিকার্জুন খাড়গের। আর সেই বক্তব্যের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য, পাটনার মঞ্চে শুরু হয়ে গেল তুমুল হট্টগোল! Business

‘কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন মল্লিকার্জুন খাড়গের। আর সেই বক্তব্যের মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে নিয়ে মন্তব্য, পাটনার মঞ্চে শুরু হয়ে গেল তুমুল হট্টগোল!

২৯ মিনিট আগে
মাত্র তিন বিঘা জমি, অভাবের সংসার আর বুকভরা স্বপ্ন! ছেলেকে ডাক্তার বানাতে নিজের জমির অর্ধেক বিক্রি করে দিয়েছিলেন কৃষক বাবা। আজ NEET UG পরীক্ষায় বাংলায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে বাবার সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখলেন মুর্শিদাবাদের অনীক ঘোষ। Breaking News

মাত্র তিন বিঘা জমি, অভাবের সংসার আর বুকভরা স্বপ্ন! ছেলেকে ডাক্তার বানাতে নিজের জমির অর্ধেক বিক্রি করে দিয়েছিলেন কৃষক বাবা। আজ NEET UG পরীক্ষায় বাংলায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে বাবার সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখলেন মুর্শিদাবাদের অনীক ঘোষ।

৪০ মিনিট আগে

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *