১২০০০ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ফের জট! অস্থায়ী কর্মী সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা, নজর নভেম্বরের শুনানিতে
পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতার পর এবার নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সমান্তরাল বা ‘হরাইজেন্টাল’ সংরক্ষণ নিয়ে। প্রায় ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অস্থায়ী কর্মীদের জন্য সংরক্ষণের নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন আইনি জটিলতা। এই সংক্রান্ত মামলাগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে এখন নজর চাকরিপ্রার্থীদের।
অস্থায়ী কর্মীদের সংরক্ষণ নিয়ে নতুন বিতর্ক
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের আমলে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে চার হাজারের বেশি পদের ক্ষেত্রে অস্থায়ী কর্মীদের জন্য সমান্তরাল সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এবং নিয়োগের উপর তার প্রভাব নির্ভর করবে আদালতের নির্দেশের উপর।
হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন বিজ্ঞপ্তি
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে পুজোর সময় নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। নিয়োগের শর্ত এবং সংরক্ষণের নিয়ম নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। হরাইজেন্টাল সংরক্ষণ সংক্রান্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নিয়োগের শর্ত নির্ধারণ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলে জানা গিয়েছে।
এই মামলাগুলির চূড়ান্ত রায় বা নির্দেশের উপরেই পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে সংশ্লিষ্ট সংরক্ষণ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে। ফলে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও সমস্ত আইনি জটিলতা মিটে গিয়েছে, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না।
নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি
মামলাগুলির পরবর্তী শুনানি নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে হওয়ার কথা। ওই শুনানিতে অস্থায়ী কর্মীদের সংরক্ষণ এবং নিয়োগের শর্ত নিয়ে আদালত কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
ওবিসি সংরক্ষণ বিতর্কের পর নতুন চ্যালেঞ্জ
এর আগে পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘ আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে ওবিসি সংরক্ষণের হার ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে মামলা কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
কলকাতা হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর জারি করা একাধিক ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের প্রভাব বজায় রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের নজর এখন আদালতের দিকে
একদিকে ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিতর্ক, অন্যদিকে অস্থায়ী কর্মীদের হরাইজেন্টাল সংরক্ষণ নিয়ে নতুন মামলা—সব মিলিয়ে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার পদে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের কাছে নভেম্বরের শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এই মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থগিত হবে কি না, কতগুলি পদের ক্ষেত্রে নতুন করে সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত নিয়োগের শর্তে কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, তা আদালতের পরবর্তী নির্দেশের পরেই স্পষ্ট হবে। আপাতত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: মামলার বর্তমান অবস্থা, শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ এবং নতুন বিজ্ঞপ্তির শর্ত প্রকাশের আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।